আকাশ সাহাঃ সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য অনুমতি ছাড়াই প্রাবাসে পারি জমিয়েছেন। ইউপি সদস্য না থাকায় বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওয়ার্ড বাসি। তাছাড়া পরিষদের মাসিক সভাসহ বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পরতে হয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে। অভিযুক্ত ঐ ইউপি সদস্যের নাম মোঃ কাউছার মাতুব্বর। সে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের মধ্যপাড়ার মৃত গোলাম মহিউদ্দিন এর পুত্র।
জানা যায়, গোয়ালপাড়া ও খোয়াড় গ্রাম নিয়ে আটঘর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড গঠিত। সেখানে মোট ভোটার ২৩৬৬ জন এবং জনসংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। ইউপি সদস্য করা কাউছার মাতুব্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা। কাউছার মাতুব্বর স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ২০১৭ সালের আটঘর ইউনিয়নের আলোচিত জিয়া হত্যা মামলার ৪নং আসামী। জিয়া নিহতের পর কাউছার ৬/৭ মাস প্রবাসে কাটান। এরপর বাড়িতে অবস্থান করে ইউপি নির্বাচন করে সাধারণ সদস্য পদে বিজয়ী হন। প্রায় ৪/৫ আগে মামলার রায় ঘোষনার খবরে প্রশাসনিক কোন অনুমতি না নিয়েই সৌদি আরবে চলে যান। কাউছার মাতুব্বর না থাকায় ৫নং ওয়ার্ডের প্রায় ৩ হাজারের বেশি বাসিন্দা বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
৫নং ওয়ার্ডের আব্দুর রাজ্জাক মাততুব্বর ও মিনারা বেগমের সাথে কথা হলে তারা জানায়, কাউছার মাতুব্বর নির্বাচিত হবার পর থেকেই ঠিকমত বাড়িতে থাকেন না। তাকে খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়। সর্বশেষ কয়েকমাস আগে তিনি সৌদি আরব কাজের জন্য গিয়েছেন। মেম্বার না থাকায় আমাদের সমস্যা হচ্ছে। নতুন একজন মেম্বার চেয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
আটঘর ইউপি সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, তিন/চার মাসের বেশি সময় ধরে কাউছার মাতুব্বর পরিষদে আসেন না। শুনেছি তিনি বিদেশে আছেন। তার অনুপস্থিতিতে অনেক সময় অসুবিধায় পড়তে হয়।
ইউপি সদস্য কাউছার মাতুব্বরের স্ত্রী ইতি বেগম বলেন, পরিষদে তেমন কোন কাজকর্ম পাওয়া যায় না, তাই আমার স্বামী কাজের জন্য প্রবাসে গেছেন। তবে যেকোন মুহুর্তে দেশে ফিরে আসতে পারেন। আমরা টাকা পয়শা খরচ করে মেম্বার হয়েছি সম্ভব হলে এই দায়িত্বটা আমাকে দেন। আমি এলাকায় থেকে মানুষের সেবা করবো। সরকারি সকল নিয়ম কানুন মেনে চলবো।
আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল হাসান খান (সোহাগ) বলেন, প্রথম থেকেই কাউছার মাতুব্বর পরিষদের কাজে সময় দেন না। সর্বশেষ তিনি কয়েকমাস আগে সৌদি আরব কাজের জন্য গিয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে ৫নং ওয়ার্ডের কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে জানানো হয়েছে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনিছুর রহমান বালী বলেন, আইন অনুযায়ী একজনের দায়িত্ব আরেকজনের পালনের সুযোগ নেই। কাউছার মাতুব্বরের অনুপস্থিতের বিষয়ে প্রমাণসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।