মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি-
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানাগর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সঠিকভাবে ফলাফল ঘোষণা না করে , এক পক্ষের হয়ে ভিন্নমত পোষণ করে ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের দাবি অনুযায়ী আদালতে মামলা হলে মুন্সীগঞ্জ সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আগামী রবিবার (২৩ মার্চ ) বিচারকের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করা হবে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এতে ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রদীপ চন্দ্র কর তালা প্রতীক নিয়ে ও একই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি হযরত আলী খান ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় একপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তালা প্রতীকের প্রার্থী প্রদীপ চন্দ্র করকে ১০ ভোটের ব্যবধান দেখিয়ে ফুটবল প্রতীক হযরত আলী খানকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন তারা প্রতীকের প্রার্থী প্রদীপ চন্দ্র কর।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করে প্রদীপ চন্দ্র কর বলেন ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের মালখানগর হাই স্কুল এন্ড কলেজ ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়ে থাকে এবং সোয়া ৪ টায় ভোট গণনা শুরু হলে। ওই নির্বাচনে আমি তালা প্রতীক নিয়ে ওয়ার্ড সদস্য পদে নির্বাচন করেছি। ভোট গণনার সময় আমি নিজে উপস্থিত থেকে দেখতে পাই রিটার্নিং অফিসার ভোট গণনা সম্পন্ন না করে, ফুটবল প্রতীক প্রার্থী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হরযত আলী খানের সঙ্গে প্রভাবিত হয়ে জোরপূর্বক সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের ভোট গণনার বিবরণী ফর্মে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে । আমাকে ভয় দেখিয়ে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে।
স্বাক্ষর প্রদান করতে স্বীকৃতি জানালে এর কিছুক্ষণ পর একটি রেজাল্ট ফুটবল প্রতীকে ১০ ভোটে জয়ী লিখে আবারও জোরপূর্বক ও ভয়ভীত্তি দেখিয়ে স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি ভোট পূর্ণ গণনার দাবী করে এই শীটে স্বাক্ষর করিতে অস্বীকৃতি জানালে। তখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি হযরত আলী খানের দ্বারা রিটার্নিং অফিসার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রভাবিত হয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।
তখন আমি ডাক চিৎকারে শুরু করলে আমার কর্মী ও উপস্থিত জনগণ এগিয়ে আসলে রিটার্নিং অফিসার ও আইন-শৃঙ্খলার সদস্যরা ভোট গণনা ও স্বাক্ষর না নিয়ে আমাকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। রিটার্নিং অফিসার ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী হযরত আলী খানকে ১০ ভোটে বেশী দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
তিনি আরো বলেন, আমি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করতে গেলে বিভিন্ন তালবাহানা করে অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
উপজেলা পর্যায়ে সমাধান না পেয়ে পরবর্তীতে আমি মুন্সীগঞ্জ কোর্টে মামলার জন্য গেলে কোর্ট মামলা না নিয়ে আমাকে হাইকোর্টে যাওয়ার জন্য বলেন। আমি হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে হাইকোর্টের আদেশ মতে মুন্সীগঞ্জ আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের মতে মুন্সীগঞ্জ সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা পরিচালনা করার পর বিচারক পুনরায় ভোট গণনার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই আদেশের প্রেক্ষিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হযরত আলী খান আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। দীর্ঘ দেড় বৎসর হাইকোর্ট আপিল শুনানির পর মহামান্য হাইকোর্ট মুন্সীগঞ্জ সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতের রায়কে বহাল রেখে পূর্ণভোট গণনার নির্দেশ দেন চলতি মার্চ মাসের ১০ তারিখে। ঐ দিন আদালত ব্যস্ত থাকার কারণে ভোট গণনা না হওয়ায় মার্চ মাসের ২৩ তারিখ যা আগামীকাল ভোট গণনা হবে। পূর্ণ ভোট গণনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারি মোঃ আলী হায়দার।